পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দলীয় পদ ব্যবহার ও পরবর্তীতে বহিষ্কৃত হয়েও তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

​অভিযুক্ত চার ভাই হলেন—জাকারিয়া পিন্টু, সোনামনি, মেহেদী হাসান ও জাকির হোসেন জুয়েল।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তাদের সম্পদের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো :

জাকারিয়া পিন্টু: ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক এই সাধারণ সম্পাদকের নিজের গ্রামে দুটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, ঈশ্বরদীতে ‘সুলভ বাজার’ নামক সুপারশপ এবং ঢাকার বাড্ডায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও তার নামে সাড়ে চার বিঘা জমি ও চারটি দামি প্রাইভেট কারের তথ্য পাওয়া গেছে।

মেহেদী হাসান: স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এই নেতার বিরুদ্ধে রাজশাহীর অভিজাত এলাকায় বহুতল ভবন, পাবনা শহরে তিন তলা কমপ্লিট ভবন এবং ঢাকার ওয়ারিতে ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। তার ব্যবহারের জন্য রয়েছে দামি হ্যারিয়ার গাড়ি।

সোনামনি ও জুয়েল: সোনামনির জোনাপুরে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের বাড়ি ও নাটোরে ১০ বিঘা জমি রয়েছে। অন্যদিকে, জুয়েল ইন্টারনেট ব্যবসা ও বিভিন্ন খাতের মাধ্যমে মাসে কোটি টাকা আয় করেন বলে জানা গেছে।

​প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক চোরাচালান ও জবরদখলসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন থানায় অন্তত ৬৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু জাকারিয়া পিন্টু ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেই ১৬টি হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

​অভিযোগ রয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিক নিয়োগ, ঈশ্বরদী ইপিজেডের ঝুট ব্যবসা এবং পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ এখন এই চক্রের হাতে। এমনকি তারা নিজ দলের নেতা-কর্মীদের নামেও অসংখ্য মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা।

​স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চক্রের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির সাংগঠনিক ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনে জাকারিয়া পিন্টুর বিতর্কিত ভূমিকার কারণে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে বলে মনে করেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা।

​এলাকাবাসীর দাবি, এই চক্রের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং এলাকার শান্তি বজায় রাখতে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় দল ও এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।